নেসার আহমেদ
[বিগত ৩ মার্চ, ২০২৪ কৃষক নেতা সারওয়ান সিং পান্ধের এবং জগজিৎ সিং ডালেওয়াল দেশজুড়ে কৃষকদের “দিল্লি চলো” প্রতিবাদ কর্মসূচিতে বুধবার দিল্লি পৌঁছানোর আহ্বান জানিয়েছেন। পাঞ্জাব ও হরিয়ানার মধ্যবর্তী শম্ভু এবং খানৌরি সীমান্ত পয়েন্টে তাদের “দিল্লি চলো” মিছিলটি নিরাপত্তা বাহিনী আটকানোর পরে বিক্ষোভকারী কৃষকরা সেখানে অবস্থান করছে। কেন্দ্রীয় সরকার তাদের দেওয়া এম এস পির প্রতিশ্রুতি রাখেনি। কৃষকরা তাই আবারও দৃঢ় সঙ্কল্প নিয়েই পথে নেমেছে। সরকারের ওপর চাপ তৈরি করতে ১০ মার্চ দেশব্যাপী চার ঘণ্টার রেল রোকোর ডাক দিয়েছে তারা। এর আগেও আমরা দেখেছি লাগাতার আন্দোলন আর দিনের পর দিন ধরে শাসকের চোখে চোখ রেখে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেওয়ার ফলে অবশেষে নতি স্বীকার করতে হয়েছিল সরকারকে। বাতিল করা হয়েছিল তিন কৃষি আইন। এই পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে দু বছর আগে কৃষি আন্দোলন চলাকালীন লেখা এই প্রবন্ধটি আমরা পুনর্মুদ্রণ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি লেখাটির প্রাসঙ্গিকতার কথা মাথায় রেখে। ব্রিটিশ জমানায় এবং ১৯৪৭ পরবর্তী সময় ধাপে ধাপে কী কী কাঠামোগত পরিবর্তনের নীতি লাগু হয়েছে কৃষিতে তা বিস্তারিত ভাবে উঠে এসেছে এই লেখায়।]
ভূমিকা
সেপ্টেম্বর ২০২০ সালে ভারতের মোদি সরকার তিনটি কৃষি আইন পাস করেছে। আইনগুলো হলো অত্যাবশ্যক পণ্য আইন সংশোধন (Essential Commodities (Amendment) Bill, কৃষিপণ্য লেনদেন ও বাণিজ্য উন্নয়ন (The Farmers’ Produce Trade and Commerce (Promotion and Facilitation) Bill, 2020 এবং কৃষিপণ্যের দাম নিশ্চিত করতে কৃষকদের সুরক্ষা ও ক্ষমতায়ন চুক্তি’ সংক্রান্ত বিল (The Farmers (Empowerment and Protection) Agreement of Price Assurance and Farm Service.. এর মধ্যে ২০২০ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর একটি এবং ১৮ সেপ্টেম্বর বাকি দুটি বিল লোকসভায় পাস হয়। ২৮ সেপ্টেম্বর দেশটির রাষ্ট্রপতি বিলে স্বাক্ষর করার পর তা আইনে পরিণত হয়। এর প্রতিবাদে কৃষকরা শক্তিশালী প্রতিরোধ আন্দোলন অব্যাহত রেখেছেন। এই বিষয়ে বিচার বিশ্লেষণ করতেই এই লেখা।
মোদি সরকার যখন বিলগুলো সংসদে উত্থাপন করে তখন সংসদে ১২টি বিরোধী রাজনৈতিক দল তার প্রতিবাদ জানিয়েছিল। তাদের বক্তব্য ছিল, আলোচিত তিনটি কৃষি বিল পাস করার সময়ে কেন্দ্রীয় সরকার একাধিক নিয়ম ভঙ্গ করেছে। যেভাবে কৃষি বিল পাস হচ্ছে তা আদ্যোপান্ত অসাংবিধানিক। কারণ কৃষি ব্যবস্থার সঙ্গে সম্পর্কিত এমন কোনো আইন কেন্দ্রীয় সরকার প্রণয়ন করতে পারে না। সংবিধানের সপ্তম শিডিউলের ১৪ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী কৃষি নিয়ে অধ্যয়ন বা গবেষণাসহ কৃষিভিত্তিক আইন প্রণয়ন করা রাজ্যের তালিকাভুক্ত। ফলে কেন্দ্রীয় সরকার এই বিলগুলোর মাধ্যমে রাজ্যের ক্ষমতায় হস্তক্ষেপ করছে।
সংসদে যখন বিলগুলো উত্থাপন করা হয় তখন এর প্রতিবাদে অনাস্থা প্রস্তাব আনেন তৃণমূল সাংসদ ডেরেক ও ব্রায়েন। তাদের সঙ্গে যুক্ত হন ডিএমকের (Dravida Munnetra Kazhagam) সাংসদ তিরুচি শিবা। তারা তিনটি বিল পাসের জন্য রাজ্যসভায় ভোট দিতে বলেন। কারণ সংবিধান অনুয়ায়ী এ অধিকার রাজ্য সভারই রয়েছে। কিন্তু রাজ্যসভায় মোদি জোট সংখ্যালঘু হওয়ায় ভোটে দেয়া হয়নি। বিলগুলো তারা ধ্বনিভোটে লোকসভায় পাস করিয়ে নেয়। সিপিএম সাংসদ কে কে রাগেশ বিলে কয়েকটি সংশোধনীর প্রস্তাব এনেছিলেন। সেটাও অগ্রাহ্য করা হয়। এই বিলকে কেন্দ্র করে ক্ষমতাসীন জোটের শরিকদের মধ্যেও বিভেদ সৃষ্টি হয়। শিরমণি আকালি দলের নির্বাচিত সাংসদ হরসিমরাত কৌর বাদল মন্ত্রিত্ব থেকে পদত্যাগ করেন। পাঞ্জাব ও কেরালার রাজ্যসভা পাল্টা কৃষি বিল পাস করেছে। সংসদে বিলগুলো উত্থাপনের সময় বিরোধীদলীয় সাংসদরা দাবি করেছিলেন,বিলগুলোতে কৃষকদের স্বার্থ উপেক্ষা করা হয়েছে। বড় বড় ব্যবসায়ীদের একতরফাভাবে ফসলের দাম নির্ধারণ ও খাদ্য মজুদের ক্ষমতা দেয়া হয়েছে।
এখানে একটি বিষয় উল্লেখ করা দরকার যে, মোদি সরকার এখন যে তিনটি আইন সংসদে পাস করেছে, ওই একই চেষ্টা দ্বিতীয় ইউপিএ সরকারেরও ছিল। ২০১০ সালের এপ্রিলে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং এ চেষ্টা করেছিলেন। সেই সময়ও কৃষকরা বিরোধিতা করেন। যার পরিপ্রেক্ষিতে গুজরাট, অন্ধ্রপ্রদেশ, তামিলনাড়ু ও মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রীদের নিয়ে একটি গোষ্ঠী তৈরি করেছিলেন মনমোহন। ওই কমিটির রিপোর্ট মোদি ২০১১ সালের মার্চে নিজ হাতে জমা দেন মনমোহনের কাছে। তার বিস্তৃত বর্ণনা এখনও মোদির নিজস্ব ওয়েবসাইটে রয়েছে। মোদির ওই রিপোর্টের এমএসপি নিশ্চিতকরণ শীর্ষক অনুচ্ছেদে লেখা ছিল, অনেক ক্ষেত্রেই চাষিরা আগাম চুক্তি করে চাষ করেন। সেক্ষেত্রে তাঁদের স্বার্থরক্ষায় ব্যবসায়ীদের সঙ্গে লেনদেনে ন্যূনতম সহায়ক মূল্যের (এমএসপির) কমে হতে দেয়া যাবে না। আইনে বিধিবদ্ধভাবে তা নিশ্চিত করতে হবে। অর্থাৎ আন্দোলনরত কৃষক ও বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো করপোরেট কোম্পানির ফসল কেনার ক্ষেত্রে যে ন্যূনতম সহায়ক মূল্যের লিখিত গ্যারান্টি চাচ্ছেন, মোদি ২০১১ সালে বিরোধী দলে থাকার সময় একই দাবি করেছিলেন।
ভারতীয় সংসদ এবং আন্তর্জাতিক পরিসর ছাড়াও বাইরে বিল পাসের প্রথম দিন থেকেই পাঞ্জাব ও হরিয়ানার চাষিরা এই আইনের প্রতিবাদে তীব্র আন্দোলন গড়ে তুলেছেন। সময় যত গড়িয়েছে, আন্দোলনে যুক্ত হচ্ছে নতুন নতুন শক্তি।
অন্যদিকে চাষিদের দিল্লি ঘেরাও আন্দোলন কিন্তু হঠাৎ ঘটে যাওয়া কোনো ঘটনা নয়। ২০১৪ সালে মোদি সরকার যখন একটু একটু করে কৃষকবিরোধী পদক্ষেপ নেয়া শুরু করে, তখন তার প্রতিক্রিয়ায় ২০১৬ সাল থেকে ভারতের কৃষক বিভিন্ন অঞ্চলে কৃষক সংগঠনগুলোর মাধ্যমে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার চেষ্টা করে। তাদের লক্ষ্য ছিল মোদির করপোরেট অভিমুখী কৃষিনীতি প্রতিহত করার কর্মনীতি ঠিক করা। এ লক্ষ্য নিয়ে ২০১৭ সালে ভারতের ২৫০টি কৃষক সংগঠন ঐক্যবদ্ধ হয়। গড়ে ওঠে ‘অল ইন্ডিয়া কিষান সংঘ কোঅর্ডিনেশন কমিটি’ (AIKSCC)। এই সমন্বয় কমিটির মধ্যে ধনী কৃষকদের সংগঠন রয়েছে। রয়েছে বামপন্থী ও বাম-ঘেঁষা কৃষক সংগঠনও। তাদের লক্ষ্য ভিন্ন ভিন্ন হলেও কিছু প্রশ্নে ঐকমত্য ছিল। যেমন ফসলের ন্যূনতম সহায়ক মূল্য ও মান্ডি প্রশ্নে কোনো ছাড় না দেয়া। ২০২০ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর যেদিন বিল তিনটি আইনে পরিণত হয়, ওই একই দিনে সমন্বয় কমিটির মিটিংয়ে নভেম্বরের শেষে দিল্লি অভিযানের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। সিদ্ধান্ত ছিল পাঞ্জাব, হরিয়ানা, উত্তরপ্রদেশ ইত্যাদি রাজ্য থেকে কৃষকরা কৃষি আইন বাতিলের দাবিতে দিল্লি ঘেরাও করবেন। সংগঠনের পক্ষ থেকে ২৫-২৬ নভেম্বর পার্লামেন্ট অভিযানের ডাক দেয়া হয়।
এর আগে তিনটি আইন পাস হওয়ার দিন থেকে স্থানীয় পর্যায়ে হরিয়ানা ও পাঞ্জাবের কৃষকরা আন্দোলন করেছেন। পাঞ্জাবের চাষিরা দুই সপ্তাহ ধরে রেললাইনের ওপর ধরনা চালান। তারা রিলায়েন্সের মল, পেট্রল পাম্প ও আউটলেটগুলো দখল করে রাখেন। আম্বানির রিলায়েন্সের পণ্য ও পরিষেবা বয়কটের ডাক দেন। পাঞ্জাবে ৯০০০ মোবাইল টাওয়ারের ১৪০০ বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। আদানির শস্যগুদামগুলোও কৃষকরা দখল করে রাখেন। তাছাড়া চলমান আন্দোলনের কারণে কৃষিনির্ভর হরিয়ানা বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে উঠেছে। আঁচ ছড়িয়ে পড়েছে অন্ধ্র, গুজরাট, মহারাষ্ট্র, তেলেঙ্গানা এবং পশ্চিমবঙ্গের মতো বিভিন্ন রাজ্যে। কিন্তু এবারের আন্দোলনে লক্ষণীয় বিষয় হলো গোটা পাঞ্জাব রাজ্য একাট্টা হয়ে পড়েছে। কারণ পাঞ্জাব হলো ভারতের এমনি একটি রাজ্য, যেখানে গ্রাম-শহর ছাড়াও ভিন্ন দেশে প্রবাসী হিসেবে অনেকে বাস করেন। তারা কেউই কৃষির সঙ্গে তাদের যোগসূত্রতা ছিন্ন করেননি। এখন অনেকেই প্রত্যক্ষভাবে কৃষির সঙ্গে যুক্ত নন। কিন্তু অনেকের বাপ-দাদা বা স্বজনরা কৃষির সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। শহরবাসীর মধ্যে কারো কারো এখনো আয়ের বড় উৎস পারিবারিক কৃষি খামার। কৃষির সঙ্গে নানান সূত্রে মানুষের যুক্ততার কারণে চলমান আন্দোলনে গোটা রাজ্য জড়িয়ে গেছে।
তিনটি আইন পাস হওয়ার দিন থেকে স্থানীয় পর্যায়ে হরিয়ানা ও পাঞ্জাবের কৃষকরা আন্দোলন করেছেন। পাঞ্জাবের চাষিরা দুই সপ্তাহ ধরে রেললাইনের ওপর ধরনা চালান। তারা রিলায়েন্সের মল, পেট্রল পাম্প ও আউটলেটগুলো দখল করে রাখেন। আম্বানির রিলায়েন্সের পণ্য ও পরিষেবা বয়কটের ডাক দেন। পাঞ্জাবে ৯০০০ মোবাইল
টাওয়ারের ১৪০০ বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। আদানির শস্যগুদামগুলোও কৃষকরা দখল করে রাখেন।
পাঞ্জাবে যখন কৃষক আন্দোলনের তীব্র আকার ধারণ করে, তখন রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে প্রথমে বলা হয় আন্দোলনে বিচ্ছিন্নতাবাদী খালিস্তানিদের যোগ রয়েছে। এরা বিচ্ছিন্নতাবাদী ও সন্ত্রাসী। আবার কখনো বলা হয়েছে আন্দোলনে মাওবাদীদের যোগ রয়েছে। এমনকি যখন রাষ্ট্রীয় প্রতিনিধিদের সঙ্গে কৃষকদের আলোচনা চলছে ঠিক ওই সময়ে নিষিদ্ধ সংগঠন ‘শিখস ফর জাস্টিস’-এর সঙ্গে জড়িত একটি মামলার তদন্তে পঞ্জাবি অভিনেতা দীপ সিধু ও কৃষক নেতা বলদেব সিংহ সিরসাসহ ৪০ জনকে তলব করেছে এনআইএ। অন্যদিকে সংকট নিরসনে অনেক চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর ভারতের সুপ্রিম কোর্ট হস্তক্ষেপ করে তিনটি বিলের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে এবং একটি কমিটি গঠন করে দেয়। কিন্তু অবস্থার কোনো হেরফের ঘটেনি। কারণ কৃষকদের দাবি, আলোচিত তিনটি কৃষি আইনে লাভবান হবে আম্বানি-আদানিদের মতো দেশি-বিদেশি বড় বড় করপোরেট সংস্থাগুলো; কৃষি উন্নয়নের নামে কৃষকদের সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে; নতুন আইনে করপোরেট সংস্থাগুলোকে চাষিদের সঙ্গে চুক্তিভিত্তিক চাষের আইনগত ভিত্তি দেয়া হয়েছে; তাতে কৃষকের হাতে জমি থাকলেও ফসলের ওপর তাদের কোনো অধিকার থাকবে না; করপোরেট সংস্থাগুলো কৃষকদের কাছ থেকে সরাসরি ফসল কিনে মজুদ করবে; এবং কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে ফসলের দাম বাড়লে বাজারে ছাড়বে। নতুন আইনে যত খুশি শস্য মজুদের কথা বলা হয়েছে কিন্তু ফসল কেনাবেচার ক্ষেত্রে যে ন্যূনতম মূল্যের গ্যারান্টি ছিল, নতুন আইন বা চুক্তিভিত্তিক চাষের ক্ষেত্রে তা বাদ দেয়া হয়েছে। এতে করে সর্বস্তরের চাষিরা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।
আলোচিত তিনটি কৃষি আইনে লাভবান হবে আম্বানি-আদানিদের মতো দেশি-বিদেশি বড় বড় করপোরেট সংস্থাগুলো; কৃষি উন্নয়নের নামে কৃষকদের সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে; নতুন আইনে করপোরেট সংস্থাগুলোকে চাষিদের সঙ্গে চুক্তিভিত্তিক চাষের আইনগত ভিত্তি দেয়া হয়েছে; তাতে কৃষকের হাতে জমি থাকলেও ফসলের ওপর তাদের কোনো অধিকার থাকবে না; করপোরেট সংস্থাগুলো কৃষকদের কাছ থেকে সরাসরি ফসল কিনে মজুদ করবে; এবং কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে ফসলের দাম বাড়লে বাজারে ছাড়বে। নতুন আইনে যত খুশি শস্য মজুদের কথা বলা হয়েছে কিন্তু ফসল কেনাবেচার ক্ষেত্রে যে ন্যূনতম মূল্যের গ্যারান্টি ছিল, নতুন আইন বা চুক্তিভিত্তিক চাষের ক্ষেত্রে তা বাদ দেয়া হয়েছে। এতে করে সর্বস্তরের চাষিরা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।
নতুন কৃষি আইনের পক্ষে রাষ্ট্রের যুক্তি ও পারস্পরিক সম্পর্ক
রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, এই আইনগুলো কার্যকর হলে কৃষক সরকারি কৃষিপণ্য কেনাবেচার প্রতিষ্ঠান মান্ডির বাইরেও তাদের পণ্য বিক্রি করতে পারবেন। চুক্তিভিত্তিক চাষে কৃষক ও কৃষির উন্নয়ন ঘটবে। বীজ বোনার আগেই কৃষক কোম্পানির সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হবেন, উৎপাদিত কৃষিপণ্যের একটি নির্দিষ্ট দাম ঠিক করতে পারবেন। উৎপাদিত পণ্যের বাজার মূল্য নিয়ে ভাবতে হবে না। স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে বেসরকারি সংস্থাগুলোও কৃষিপণ্য মজুদ করতে পারবে। কৃষিতে বড় বড় বেসরকারি কোম্পানিগুলো সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে পণ্য কিনে ভোক্তাদের কাছে বিক্রি করতে পারবে। মধ্যস্বত্বভোগীদের দরকার পড়বে না। বিপণনের সুবিধার্থে বড় সংস্থাগুলো তাদের আধুনিক প্রযুক্তি-নির্ভর গুদামে পণ্য মজুদ রাখতে পারবে। কৃষিপণ্য নষ্ট হওয়ার প্রবণতা কমবে। বেসরকারি সংস্থাগুলোর বৃহৎ লেনদেন খাদ্যশস্য সংগ্রহ ও বিপণনের খরচ কমাবে। সব মিলিয়ে ভারতীয় কৃষি আরো দক্ষ, বাজার নির্ভর হয়ে উঠবে। যার সুফল পাবেন ভোক্তা ও কৃষকরা। মূলত কৃষিতে করপোরেট পুঁজি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে এগুলো হলো প্রধান যুক্তি। মোদি সরকারের উল্লেখিত যুক্তিগুলো বুঝতে গেলে নতুন



